জীবন্ত লাশ(বাদল চৌধুরী) - Jibonergolpo.com

জীবন্ত লাশ(বাদল চৌধুরী)

জীবন্ত লাশ
বাদল চৌধুরী
প্রতিটি মানুষ সপ্ন দেখে, একটু সুখের জন্য, মধ্যবিত্ত পরিবার গুলো দেখলে হয় যে অভিন্ন
বর্তমান সমাজে প্রচিলিত ডাইলোক
মেয়ে - আর অপেক্ষা করতে পারছি না।
ছেলে -দয়া করে একটু সময় দিও।
কিন্তু কেন একটি ছেলের এতো অপেক্ষা কেন।
এটাই বাস্তবতা গল্পটা সত্য  

মায়া  তোকে ভালোবেসে আজ আমি মৃত, চারিদিকে শুধু অন্ধকার এখন আর ভোরের সূর্য দেখি না, রাতের আকাশের চাঁদটাও যেন রঙ হারিয়ে ফেলছে, 

প্রকৃতির হিমেল হাওয়া এখন আর আমাকে মুগ্ধ করে না।


মায়ের হাতের রান্না গুলো কেন জানি বিষের মত হয়ে গেছে, বন্ধুবান্ধব সব কিছু যেন শেষ হয়ে গেছে, কোন কিছুই ভালো লাগে না।

কিন্তু কি করবো বল, তাদের তো কোন দোষ নেই। সব দোষ তো আমার নিজের মন প্রাণ উজাড় করে
সব ভালোবাসা তোমায় দিয়ে আজ আমি নিঃস্ব।

জীবনটা যেন স্রোতে ভাসা শ্যাওলার মতো হয়ে গেছে।
তাতে তুমি দুঃখ করো না কারণ তোমার তো কোন দোষ নেই, তুমি তো অনেক চেয়েছিলে আমাকে, কিন্তু আমি পারিনি,
মায়া-- প্রতিষ্টিত হয়ে আসো বলাটা যত সোজা বাস্তবতা তা না, প্রতিটি ছেলে চাই প্রতিষ্ঠিত হতে সুনাম করতে, পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করতে,

কিন্তু আমাদের এই সমাজে মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেদের জন্য সেটা শোনার হরিণীর মত, আমরা না পারি নিজের মনের ব্যথা কাউকে বলতে।
না পারি প্রিয় মানুষগুলোর অবহেলা সহ্য করতে।

তুমি আমাকে অনেকটা সময় দিয়েছো এক  বছর আমি কিছুই করতে পারেনি।
কিভাবে করবো  তোমার ভালোবাসা পাওয়ার জন্য আমি এক বছর এই রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছি, কোথাও কোন ধরনের চাকরি আমার কপালে জোটে নাই। বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে আমি ঘুরেছি রাস্তায় রাস্তায় ধুলাবালি রোদের তাপমাত্রার কথা আমি আর আমার শরীর ছাড়া কেউই জানে না,
মায়া,, তুমি তো শুধু অপেক্ষা করে ছিলে

আমি জীবনের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করেছি।
বৃথা যায়নি প্রতিষ্ঠিত হয়েছি, কিন্তু কি হবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে।

যার জন্য এত কিছু সেই এখন অন্যের বউ

আর নিতে পারছি না, তুমি কত সহজে বলে দিলে, আমি তোমার চেয়েও ভাল মেয়ে পাব। একটা বারও ভাবলে না, তোমাকে ছাড়া আমি কি ভাবে থাকবো।
মায়া,, এই দেশে মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেদের পকেটের খবর আর পেটের খবর কেউ নেয় না।
গরিব ঘরের ছেলেরা সহজে তাদের মনের কষ্ট আমাদের কাছে বলতে পারে,, আমরা নিজের পকেটের নাস্তার টাকা তাদের দিয়ে বলি ভালো থাকিস।
কিন্তু আমরা কাউকে বলতে পারি না।

মায়া ---
আমাদের দেশে মধ্যবিত্ত ছেলেদের জন্য কোন কাজ নেই, তাই তো স্বপ্ন পূরণের জন্য পারি  দিতে হয় দূর প্রবাসে।
যেখানে মা বাবা ভাই বোন সবার মায়া ত্যাগ করে থাকতে হয় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।
আর সেই প্রতিষ্ঠায়, যদি বাস্তব জীবনে কোনো উপকারে না আসে তাহলে বেঁচে থেকে কী লাভ বলতে পার।

অনেক স্বপ্ন নিয়ে দেশ এসেছে চার বছর পর সবাই আজ আমার উপর খুশি মা বাবা ভাই বোন সবাই।

শুধু আমি পারলাম না, তুমি যেমন সোজা একটা অজুহাত দিয়েছিলে তেমনটা আমি কখনো বলবো না  ভালো থেকো তুমি।
সুখে থেকো, আমার আর কোনো ভালো মেয়ে প্রয়োজন নেই।
ভয় পেয় না। আমি মারা যাব না, কারন  আমি চলে গেলে আমার পরিবারের কি হবে।
আমার মায়ের চোখের জলের মূল্য আমি দিতে পারবো।
পারবোনা,, তাই সবুজ মায়ের বুকে বাকি সময়টা কাটিয়ে দিব জীবন্ত একটি লাশ হয়ে।
মায়া,, মানুষ মারা গেলে সবাই দেখে কিন্তু মন মারা গেলে কেউ দেখেনা।
যেটা আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেরা প্রতিনিয়ত দিয়ে আসছি।
কারণ আমরা যে মা মাটি কে বড্ড বেশি ভালোবাসি।
ভালো থেকো তুমি বাঁধ সুখের ঘর।
অপেক্ষার অজুহাতে আমি আজ পর।
ইতি,,, মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে

No comments

গল্পটি পড়ার পরে আপনার কোন মতামত থাকলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন....