অপেক্ষার প্রহর-পাঠ ২(বাদল চৌধুরী) - Jibonergolpo.com

অপেক্ষার প্রহর-পাঠ ২(বাদল চৌধুরী)

অপেক্ষার প্রহর পাঠ২
বাদল চৌধুরী
কথায় আছে না, ভালোবাসা কি মানে ভয় এমপি মন্ত্রী কে যত কথাই কয়।
ঠিক তেমনটাই হয়েছিল তাদের এই সম্পর্কটা ভাঙ্গার জন্য কলেজের বন্ধুরা, যেমন উঠে পড়ে লেগেছিল, তেমনি শারমিনের এলাকার লোক গুলো। নিয়মিত তারা সবাই মিলে একটা দল গঠন করেছিল রাসেলকে ইনসাল্ট করার জন্য।

কিন্তু পারে নাই, রাসেল এবং  তার বন্ধুরা এর দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছিল। হয়তো সেই দিনের সেই জবাবটা আজকে রাসেল এর  জীবনে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই ঘটনার পর আগের মত তাদেরকে আর চলতে দেখা যায়নি, কারণটা হয়তো এখনো অজানার মধ্যেই পড়ে রয়েছে, তারপর শারমিন কাউকে কিছু না বলে। কলেজ থেকে টিসি নিয়ে শহরের দামি-কামী  একটি কলেজে ভর্তি হয়েছিল সেটা রাসেল জানতে পারেনি রাসেল যখন জানতে পারল শারমিন নামের মেয়েটি আর এলাকাতে নেই।

তখন রাসেল  খুব ভেঙে পড়েছিল। রাসেল প্রতিটি অনুভূতি জুড়ে ছিল শারমিন। কি করে রাসেল কে সান্তনা দিবে তখন রাসেলের বন্ধুদের  সেটা জানা ছিল না

রাস্তার পাশে একা বসে থাকতে সবসময় কারো সাথে কোন কথা বলতো না।  যেমন জ্বলন্ত একটি প্রদীপ নিভু নিভু অবস্থা।
নিজের চেষ্টায় অনেক খোঁজ করেছিল সন্ধান পেয়েছিল শারমিন কোথায়  থাকে কিন্তু তখন শারমিন রাসেলের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ রাখে  নি।

তাদের ভালবাসার গভীরতা এতই বেশি ছিল যে কেউই বলবে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসার মধ্যে এটি একটি।

শারমিন যখন চলে গিয়েছিল তখন আস্তে আস্তে জীবনের সব রঙ হারিয়ে যেতে শুরু করেছিল।  যে রাসেল পোশাক-আশাকের উপর সব সময় নজর ছিল যে সাপ্তাহে দু-চারটা নতুন জামা কিনতে না পারলে মাথা ঠিক থাকতো না
ওই রাসেল এখন কোন উৎসর্ব এর মধ্যেও  নতুন জামা পড়ে না।
তার দু চোখে শুধু অস্ত্রু বন্যা আর পড়ে থাকা একটি রাস্তা এই ছিল সম্ভল।
ছেলের জীবন এর এই অবস্তা তার বাবা-মা  পরিবার সবাই বুঝতে পেরেছিল।
রাসেল যধি  এইভাবে বাংলাদেশ থাকে হয়তো আর বেশীদিন বাঁচবেনা। বন্ধুরা চেয়েছিলো যে কোন কিছুর বিনিময় হোক তাদের দুজনকে এক করে দেওয়া।

সেজন্যই একদিন রাসেলের বন্ধুরা শারমিনের বাবাকে থেড করেছিল যেটা রাসেল জানে না। লক্ষ ছিল তাদের মধ্যে আগের সুখ ফিরিয়ে দিওয়ার

কিন্তু কথায় আছে না হিতে বিপরীত তাই  পজিটিভ চিন্তা না করে। শারমিনের বাবা এবং তার আত্মীয়-স্বজনরা এটা নেগেটিভ এ রুপান্তর করেছে। রাসেলকে শারমিনের চোখে খারাপ থেকে আরও খারাপ পরিণত করেছে। কিন্তু রাসেল  তার জন্য  এক বিন্দুও দায়ী নয়। তাদের সুখের কথা চিন্তা করে যা করেছিল রাসেলের বন্ধুরাই করেছিল রাসেল না,

কথায় বলে না, যার উপর ভালোবাসা বেশি তার উপর রাগ অভিমান আর বেশি, সেই কারণে হয়তো শারমিনের অভিমানটা রাসেল এর উপর আর অনেকটাই বেরিয়ে গেছিল.

এতটাই ঘৃণার জন্ম নিয়েছে যে, কোন প্রকারে শারমিন আর রাসেল কে বিশ্বাস করতে পারছিল না, ওইদিকে রাসেল পারে না কোনোভাবেই ভুলতে পারে না। তার ভালোবাসার  প্রিয় মানুষটিকে।

রাসেল নিজের স্বপ্ন আর পরিবারের কথা রাখার জন্য প্রবাসে চলে যায়।যাওয়ার সময় দু পোটা চোখের জ্বল পেলে বলে গেছে।
মা দোয়া করো, আমি যেন পিরে এসে শারমিনকে পাই।

রাসেল এখনো বিশ্বাস করে তার ভালোবাসার মানুষটি একদিন না একদিন তার কাছেই ফিরে আসবে। সেই বিশ্বাসটা নিয়ে আজও রাসেল প্রতিনিয়ত অপেক্ষা করেছে শারমিনের জন্য।
শারমিন ও রাসেলকে ভুলতে পারলো না। মনের ভিতরে যেমন রাসেলের জন্য অনেকটা ঘৃণা জন্ম দিয়েছে। তেমনি বেঁধে রেখেছে রাসেলের জন্য এক বুক ভালোবাসা।

কিন্তু আধো সে ভালোবাসা পাওয়ার কপাল রাসেলের আছে কিনা সেটা হয়তো রাসেলের জানা নেই।
শারমিনের মনের যে একটা অবিশ্বাসটা
প্রতিনিয়ত দুজনই কাঁদাচ্ছে অঝোরছে  ঝরছে তাদের চোখে বৃষ্টি কিন্তু কেউই দেখছে না।
শারমিন মনে যে অবিশ্বাসের জন্ম হয়েছিল তার শেষটা জানতে হলে আমাদের সাথে থাকুন মনে রাখবেন।

নিঃশ্বাস হারালে দেহের মৃত্যু আর বিশ্বাস হারালে হয়, মনের মৃত্যু খুব

No comments

গল্পটি পড়ার পরে আপনার কোন মতামত থাকলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন....