অপেক্ষার প্রহর(বাদল চৌধুরী) - Jibonergolpo.com

অপেক্ষার প্রহর(বাদল চৌধুরী)

অপেক্ষার প্রহর
বাদল চৌধুরী

আমার বুক পিঞ্জরে ছিলি তুই, ছিলি।
ছোট্ট মনের ঘরে, কেমন করে ভুলে গেলে।
বলনা একটু মরে।
আজও কি তোর মনে পড়ে আমার কবিতা প্রতিটি লাইনে হত লেখা তোর ছবিটা।

একই বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় ওরা দুজন শারমিন আর রাসেল গল্পটা তখন কারি

স্কুল জীবন শারমিন যখন নবম শ্রেণীতে পড়তো,রাসেল তখন দশম শ্রেণীতে দুচোখ ভরা স্বপ্ন, আবেগি জীবন, তখন তাদের বিবেককে অন্ধ করে দিয়েছিল কারো কোন কথা অপেক্ষা না করে গভীর ভালবাসায় আবদ্ধ হয় শারমিন &রাসেল।

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ শুরু তাদের ভালোবাসা।
প্রতিটি মুহূর্তে একজন ছিল আরেকজনের পাশাপাশি, তাদের হাসি-কান্না সুখ-দুঃখ, একজন আরেকজনের কাছে প্রতিনিয়তই শেয়ার করত। কোন কিছুই লুকাতো না।

তাদের এমন ভালোবাসা দেখে অনেকেরই হিংসে হচ্ছিল, বর্তমান যুগে, এখন আর লাইলি, মজনু, শিরি, ফরহাদের প্রেম দেখা যায় না। কিন্তু তাদের এই প্রেম  সত্যি সবার কাছে অনেকটা গ্রহণযোগ্য ছিল।

এবং মেয়েদের কাছে অনেকটা হিংসে হচ্ছিলো, রাসেলের মত ছেলেকে পাওয়ার জন্য যে কোন মেয়ে হাত বাড়াবে, রাসেল দেখতে শুনতে যতটা ইস্মার্ট ছিল। তার কথাবার্তা চলার স্টাইল আর বেশি স্মার্ট, এক মুহূর্তে যে কোন মেয়ের মন কেড়ে নেয়ার মত একটি ছেলে।

শারমিন ও খারাপ  না, দেখতে  শুনতে অনেকটাই স্মার্ট একবারে রাজযোটক বললেই চলে।

স্কুলে জীবনে এর প্রেম বন্ধুবান্ধব না জানলে কি চলে। তাদের এই সম্পর্কের কথা অনেকেই জানে। অনেক বাঁধা ও আসে, তবুও কেউ কাউকে এক মুহূর্তের জন্য ভুল বোঝে নি। তারা তাদের অবস্থান থেকে ঠিকই ছিল রাসেল পরীক্ষার পর এলাকার পাশে কলেজে ভর্তি হয়েছিল। শারমিনের কথা চিন্তা করে শারমিন ও সেম পরের বছর ওই কলেজটিতে ভর্তি হয়েছ ছিল। কলেজ এর শুরুতে রাসেল এর সকল বন্ধুরা শারমিন কে ভাবী বলে ঢাকতে শুরু করে। এমন কি ওরা সবাই নির্মিত শারমিনের খোঁজ খবর নেওয়া
থেকে শুরু করে সকল বিষয়ে খবর রাখতো।

তাদের এই ভালোবাসাটা স্কুল ছেড়ে এখন পুরো কলেজ টির মধ্যে একটি আলোকিত বিষয় হয়ে পরেছিল। অনেক মেয়েরাই তাদের এই ভালোবাসা টাকে সহ্য করে নিতে পারেনি। তারা নিয়মিত টিচারদের কাছে শারমিনের নামে অভিযোগ করত। তারপরও তারা তাদের ভালোবাসায় ছিলে অটল।

একদিন রাসেল ক্লাসে ঢুকার সময় শুনতে পারে তার এক বন্ধু শারমিন কে নিয়ে সমালোচনা করছে, রাসেলেরর  তখন বিষের মতো শরীর জ্বলতে শুরু করে, বেচারার আর  কি করার তার বাকি বন্ধু গুলো মিলে ওই ছেলেটাকে দোতলা থেকে মারতে মারতে কলেজের মাঠে পর্যন্ত নিয়ে যায়। স্যার যখন প্রশ্ন করল তোমরা ছেলেটিকে এত বেশী মারলে কেন তখন তারাও বলেছিল ভালো লাগছে তাই। এক মুহূর্তের জন্য রাসেলে বন্ধুরা বলেনি সত্যি কথা ওরা দোষটা নিজেদের ঘাড়ে চাপিয়ে নিয়ে ছিল। শুধু তাই না শারমিন যখন বাড়ি থেকে বের হতো। তখন তারাই তার খেয়াল রাখত। বিকাল বেলা যখন বাড়িতে চলে যেত। তখন রাসেল সহকারে তারাই বাড়িতে দিয়ে আসত।

No comments

গল্পটি পড়ার পরে আপনার কোন মতামত থাকলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন....